চট্টগ্রাম । শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ,২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ট্রেন্ডিং :

মায়ের ইন্ধনেই মেঝো মেয়ের জামাই হত্যা করলো ছোট মেয়ের জামাইকে!

হালদা রিপোর্ট : গর্ভধারিণী মায়ের ইন্ধনেই মেঝো মেয়ের জামাই হত্যা করলো ছোট মেয়ের জামাইকে! বর্বরতার এ কি দশা! তারও কি সীমা নেই?

এমনি বর্বরময় তথ্য উঠে এসেছে ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নে দুলাভাইকে বিয়ে না করে প্রেমিককে পালিয়ে বিয়ে করার জেরে গত ২১ জানুয়ারি নিখোঁজ এবং তার ৫দিন পর ২৬ জানুয়ারী লাশ উদ্ধার হওয়া হতভাগা কিশোর রাজু মিয়া (১৯) হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফিরোজ ও তার শ্বাশুড়ি ফাতেমাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে। যেটি ফটিকছড়ি থানা পুলিশ উদঘাটন করেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সেলিম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজের সার্বিক দিকনির্দেশনায় ২৭ জানুয়ারি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফটিকছড়ি থানা‌ পুলিশ অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৫নং ওয়ার্ডস্থ ‘ফৌজদারি মোড়’ এলাকা থেকে শ্যালিকা তুসির স্বামী রাজু হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফিরোজ আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাকে ফটিকছড়ি থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি ছুরি ও ঘটনার সময় পরিহিত থ্রি-পিস পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার শ্বাশুড়ি ফাতেমাকেও ওই হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনেদাতা হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের তথ্যানুযায়ী- নিহত রাজুর সঙ্গে প্রতিবেশী তুসির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দু’জন পালিয়ে বিয়ে করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বোনের উপর শ্যালিকাকে বিয়ে করতে মরিয়া তুসির বোন জামাই ফিরোজ। যদিও বিয়ের পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে সেই মিমাংসা মেনে নিতে পারেনি শ্যালিকার প্রতি লোলুপ বোন জামাই ফিরোজ ও তার শ্বাশুড়ি (তুসির মা) ফাতেমা। অভিযোগ রয়েছে- তুসির মা ফাতেমার ইন্ধনেই পরিকল্পিত ভাবে ফিরোজ মধুময় ভাষায় আপন সেজে ফোনে রাজুকে ডেকে নিয়ে স্থানীয় কনখাইয়া খালের নির্জন স্থানে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে এবং মৃতদেহ গোপন করতে খালের চরে বালুর মধ্যে পুঁতে দেয়! পাঁচ দিন পর দুর্গন্ধ ছড়ালে ২৬ জানুয়ারী সকালে কুকুর বালি খুঁড়ে লাশ বের করে দৌঁড়ে লোকালয়ে গিয়ে অঝোরে কেঁদে খালের ভেতরের দিকে এলাকাবাসীকে ইশারা করে দৌঁড়াচ্ছিল! এ এক প্রকৃতিক সন্ধানময় ঘটনা। পরে কুকুরের পেছনে যাওয়া এলাকাবাসী পঁচা-দুর্গন্ধ ও ফুলা-ফাফা রাজুর লাশ দেখে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওইদিনই পুলিশ মামলার তদন্তে নেমে জামাই-শ্বাশুড়িকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম আরো জানান, ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্ৰেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top