হালদা রিপোর্ট : মাইজভান্ডার দরবার শরীফের অন্যতম শাজ্জাদানশীন ও বিএসপি চেয়ারম্যান শাহসুফি ডঃ সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেছেন- ন্যায়, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয় আউলিয়াদের আদর্শেই। তাঁদের প্রদর্শিত ইসলামী ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধই দেশ ও সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিভেদ ও সহিংসতা পরিহার করে ঐক্য, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণে কাজ করা সময়ের দাবি।
রবিবার (৫ এপ্রিল) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে হযরত গাউছুল আযম শাহসূফি মাওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান (ক:) এর ৯০তম পবিত্র ওরশ শরীফের প্রধান দিবসে আখেরী মোনাজাতপূর্ব মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত লাখো আশেক-ভক্ত অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভান্ডারি আরো বলেন, বাবাভাণ্ডারী (ক:) এর জীবন আধ্যাত্মিকতা, মানবিকতা ও খেদমতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শ মানুষকে আল্লাহভীতি, মানবপ্রেম, সহমর্মিতা ও নৈতিক জীবনে উদ্বুদ্ধ করে- যা ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাবা ভান্ডারীর জীবনাদর্শ নিয়ে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ মইনুদ্দীন, কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন এবং হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের মহাসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মহসিন চৌধুরী।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, বিএসপি ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া চাঁদপুরী, খলিফা সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ ওসমান আলীসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপস্থিত ছিলেন মুফতি মাওলানা নেছারুল আলম, মাওলানা মুফতি মাকসুদুর রহমান, মাওলানা বাকের আনসারী, হাফেজ মাওলানা নাজের হোসাইন, মাওলানা হাফেজ কেরামত আলী, বিএসপি যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ইব্রাহিম মিয়া এবং সাংবাদিক ঢালী কামরুজ্জামান হারুন প্রমূখ।
গাউছিয়া রহমান মঞ্জিলের ব্যবস্থাপনায় এবং আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে ওরশ শরীফ উপলক্ষে খতমে কোরআন, খতমে গাউছিয়া, রওজায় নতুন গিলাফ চড়ানো, মাদকবিরোধী প্রচারণা, ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ওয়াজ মাহফিল, ছেমা-কাওয়ালি ও তবারুক বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেয়া হয়।
শেষে মইনীয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন শাহসুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় লাখো ভক্তের ‘আমীন-আমীন’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে দরবার শরীফ; সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ।