চট্টগ্রাম । শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ,২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ট্রেন্ডিং :

ফটিকছড়িতে দুলাভাইকে বিয়ে না করে প্রেমিককে বিয়ে করার খেসারতে স্বামীর লাশ উপহার!

হালদা রিপোর্ট : ফটিকছড়িতে দুলাভাইকে বিয়ে না করে পালিয়ে গিয়ে প্রেমিককে বিয়ে করার খেসারত হিসেবে লাশ হতে হয়েছে এক প্রেমিকার হতভাগা প্রেমিককে! এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডস্থ এক অজপাড়া গাঁয়ে। 

নিহত রাজু ওই এলাকার আব্দুল হাদী মুন্সি বাড়ি’র জনৈক কবির হোসেনের পুত্র বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রাজু’র সঙ্গে তাদের দু’ঘর পরের প্রতিবেশী তুসি নামের এক তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। অন্যদিকে আপন বড়বোন জামাইও তুসিকে বোনের উপর বিয়ে করতে প্রায়শই প্রস্তাব-কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমনকি বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানিও ঘটিয়েছিল। এজন্য তুসির বোনকে তার জামাই প্রায় সময় দু’বোনকে বিয়ে করে সুন্দর ভাবে চালাবে মর্মে চাপ প্রয়োগ করতো। উপায়ান্তর না দেখে বোনের সংসার বাঁচাতে তুসি তার প্রেমিক রাজু’র হাত ধরে মধ্য জানুয়ারি পালিয়ে বিয়ে করে বসে। এ খবর জানাজানি হলে বোন জামাই ফিরোজের চাপে তুসির পরিবার ওই বিয়ে মানতে নারাজ। পরে গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে উভয় পরিবারের মতের ভিত্তিতে সামাজিক বৈঠকে তা সমাধান হয়। বিয়ের ব্যাপারটি সমাধা হওয়ায় সন্ধ্যায় রাজু রিল্যাক্স মুড়ে বাড়ীর পাশে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিল। এমন সময় স্ত্রীর বোন জামাই ফিরোজ তাকে ফোন দিয়ে তার সাথে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার বিষয়ে কথা বলতে বলে তার কাছে ডেকে পাঠায়। এসময় তার বন্ধুরা বারণ করলেও রাজু বলে- ভাইয়া ডাকছে যাই। সেই যে গেল আর ফেরেনি রাজু মিয়া। পরে রাজু এবং তুসির বোন জামাই ফিরোজের ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তাদের কোথাও হদিস মিলছে না। ফলে ২২ জানুয়ারি রাজু মিয়ার পিতা বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগে তরুণী তুসির বোন জামাই ফিরোজ আহমদকে প্রধান আসামিসহ সুনির্দিষ্ট ৬ জন এবং অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। 

থানায় দায়ের করা অভিযোগ মতে রবিবার (২৫ জানুয়ারী) পুলিশ বাদীর বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা মেলায় অভিযোগটি জিডি আকারে আমলে নেয়া হয়। এর পরদিন; অর্থাৎ নিখোঁজের ৫ দিন পর রাজু মিয়ার (১৯) মৃতদেহ পাওয়া যায় বাড়ীর অদুরে কনখাইয়া খালে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কনখাইয়া খালের ভেতর পাড়ে দুর্গন্ধ পেয়ে কুকুর মাটি খুঁড়ে লাশ বের করে দৌঁড়ে লোকালয়ে গিয়ে অঝোরে কাঁদছিল আর খালের পাড়ের দিকে দৌড়াচ্ছিল। কুকুরের অবস্থা দেখে লোকজন খালের ভেতর গিয়ে দেখে পঁচা-গন্ধা, ফুলা-ফাফা মানুষের লাশ! পরে খবর পেয়ে নিহতের পরিবার লাশ সনাক্ত করে এবং ফটিকছড়ি থানা পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ধর্মপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মোঃ শোয়েব সিকদার। 

এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিহতের স্ত্রী তুসি আকতার অভিযোগ করেছে- ‘তার বোন জামাইকে (দুলাভাই) বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে দুলাভাই ফিরোজ। সে তার স্বামী হত্যার সুষ্টু বিচার চায়’। 

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে- নিহতের পিতা কবির হোসেন বাদি হয়ে রাজু’র স্ত্রীর বড় বোনের জামাই ফিরোজ আহমদকে প্রধান আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় অপহরণোত্তর হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top