
হালদা রিপোর্ট : চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি বনাম জামায়াত প্রার্থীর আইনী যুদ্ধ শেষতক সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল করে ইসির দেয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিটের শুনানিকালে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) উভয় পক্ষের আইনজীবীদের তুমুল যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে হাইকোর্ট এক পর্যায়ে রিটটি রিজেক্ট করতে চাইলে এমনতর আশঙ্কা পরিলক্ষিত হয়। পরে রিটকারী সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে আইনজীবী সময় চাইলে হাইকোর্ট বৃহস্পতিবার সব পক্ষকে নিয়ে অধিকতর শুনানি এবং অর্ডারের জন্য দিন ধার্য্য করেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এমন সিদ্ধান্ত দেন।
মূল ভবনের ২০ নম্বর কোর্টে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র এডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ সময় তাদের আইনী পয়েন্ট দিয়ে সহায়তা করেন সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী।
শুনানি শেষে বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী বলেন, বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর ঋণখেলাপি নন। কারণ- তিনি আইনী প্রক্রিয়ায় সশ্রদ্ধ থেকে বিধি মোতাবেক ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ করেছেন। জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন তাকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করে চলেছেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার আংশিক শুনানি হয়েছে। রিটকারী সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানির এক পর্যায়ে এতদসংক্রান্ত কাগজ-পত্রাদি কোর্টে দাখিলের সময় চাইলে হাইকোর্ট বিষয়টি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে- মনোনয়নপত্র দাখিলের পর চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভুঁঞা যাচাই-বাছাই শেষে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে একই আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপী নন মর্মে হাইকোর্টের আদেশ থাকায় সেই আপিলের শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে বৈধ ঘোষণা করেন। কিন্তু হাইকোর্টের ওই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি রেজাউল হকের কোর্টে আপীল করে ঋণখেলাপি নন মর্মে দেয়া হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করায়। পরে চেম্বার জজ আদালতের আদেশের কপি নিয়ে বিকেলে নির্বাচন কমিশনে জমা দিলে ইসি তৎক্ষণাৎ বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়। কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরোয়ার আলমগীর পরদিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টে রিট আকারে আপীল করেন। এটিই মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করলো।
এরিমধ্যে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরাতে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আরো একটি সিভিল পিটিশন (নং-২৮২/২০২৬) দায়ের করেছেন। এ পিটিশনে ‘হালদা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড অ্যান্ড ব্রাদার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে। জামায়াত প্রার্থীর দাবি- সরোয়ার আলমগীরের ওই প্রতিষ্ঠানটিও ঋণখেলাপি। অবশ্য বিকেলে শুনানি শেষে চেম্বার জজ রেজাউল হক পিটিশনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে প্রেরণ করে দেন। আগামী বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ওই পিটিশনেরও শুনানি হবার কথা রয়েছে।
তবে এ বিষয়েও সরোয়ার আলমগীরের আইনজীবী বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী দাবি করেন- “হালদা এন্টারপ্রাইজের সিআইবি রিপোর্ট হালনাগাদ রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি নয়।”
এর আগে গত সোমবারও (১৯ জানুয়ারি) হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন আরো একটি সিভিল পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে চেম্বার জজ আদালত সেটিতে ‘নো-অর্ডার’ দিয়ে পিটিশনটি রিলিজ করে দেন।
অভিজ্ঞ আইনজীবীদের মতে- মুলতবি করা বৃহস্পতিবারের রিটের ফয়সালা হাইকোর্টে মিমাংসিত না হলে সেটিও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত গড়াতে পারে। দৃশ্যত ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এই আইনি লড়াই এখন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ- উভয় কক্ষে বিচারাধীন এবং শেষ পর্যন্ত সব পিটিশন আপীল বিভাগেই নিষ্পত্তি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাই অভিজ্ঞ মহল মনে করে- ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচন এখন সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টেই চলছে!