চট্টগ্রাম । শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ,২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ট্রেন্ডিং :

ফটিকছড়ি-মিরসরাইয়ে পাহাড় কেটে সড়ক নির্মাণ : সওজকে কোটির উপরে জরিমানা!

হালদা রিপোর্ট 

ফটিকছড়ি-মিরসরাইয়ে পাহাড় কেটে বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় স্থলবন্দর মহাসড়ক নির্মাণ করার অভিযোগে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তর। সড়ক সম্প্রসারণের জন্য সওজ প্রায় ৩৫ শতক পাহাড় কেটেছে বলে জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর। তদন্ত পরবর্তী শুনানি শেষে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ জরিমানা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের প্রধান রসায়নবিদ গোলাম বাশির আহমেদ গণমাধ্যমকে জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আইন অমান্য করে এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ জরিমানা করা হয়েছে।

সওজের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন দাবী করেন- তারা জনস্বার্থে বিদ্যমান সড়ক সম্প্রসারণকরণে পাহাড় কেটে সড়ক প্রশস্ত এবং সেতু তৈরি করেছেন। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর যে পরিমাণ উল্লেখ করেছে; সে পরিমাণ পাহাড় কাটা হয়নি। তারা এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, চট্টগ্রামে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ‘বারাইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক সম্প্রসারণ (এলওসি-৩)’ প্রকল্পের কাজে ওই পাহাড় কাটা হয়। এ সড়কের ১৭টি এলাকায় পাহাড় কাটা হয়। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গিয়ে পাহাড় কাটার প্রমাণ পায়। এক বছরের মাথায় গত ৪ নভেম্বর আরেক দফা তদন্ত করা হয়। দু’বার তদন্ত করে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৭০ ঘনফুট বা ৩৪ দশমিক ৯২ শতক পাহাড় কাটার হিসাব বের করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র আরো জানায়, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সওজের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন চৌধুরীসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে শুনানি হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ে। শুনানি শেষে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা সওজকে জরিমানা করা হয়।

এ খবর ফটিকছড়ি, মিরসরাই এবং খাগড়াছড়ি এলাকায় পৌঁছালে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। বৃটিশ আমল থেকেই ফেনী-রামগড় হিসেবে এ মহাসড়কটি বিদ্যমান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর কখনোই জনস্বার্থ বিবেচনা করেনি। ফলে সড়কটি সম্প্রসারণ করা যায়নি। কিন্তু দেড়শ বছর পর এ মহাসড়কটি সম্প্রসারণ শুরু করলে পরিবেশ অধিদপ্তর নানা অজুহাত দেখিয়ে সম্প্রসারণ কাজে বাঁধা দিতে থাকে।

অভিজ্ঞ মহল মনে করে- লাখো একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল জবরদখল কিংবা ধ্বংসযজ্ঞ চললেও পরিবেশ অধিদপ্তর কোন পদক্ষেপ নেয় না। এমনকি কেউ তথ্য দিলেও তা খতিয়ে দেখতে গরজবোধ করে না; অথচ জনস্বার্থে নির্মিতব্য বারইয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় স্থলবন্দর মহাসড়কে কু-নজর পড়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের। এতে মহাসড়কটির নির্মাণ কাজ হুমকি হয়ে পড়তে পারে। যাত্রী সাধারণের গণদাবি- অবিলম্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যায্য জরিমানা আদেশ বাতিল করে সড়ক ও জনপথ বিভাগের চলমান কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। যদি পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যায্য জরিমানার মুখে সড়ক নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়- ওই অঞ্চলের লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top